শুধু মা-বাবার সাথে বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরেছিল শিশু শিক্ষার্থী

0
96

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক মাদরাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। মঙ্গলবার (৯ মার্চ) থেকে হাজার হাজার মানুষ ওই ভিডিও শেয়ার করেন।

জানা গেছে, হাটহাজারীর পৌর এলাকার এক মাদরাসার হিফজ বিভাগের এক শিশু শিক্ষার্থীকে তার মা পারভিন আক্তার ও বাবা মোহাম্মদ জয়নাল মাদরাসায় দেখতে যান। কিন্তু ফেরার সময় ছোট্ট শিশুটি মা-বাবার সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরে। এক পর্যায়ে সে মা-বাবার পিছু পিছু মাদরাসার মূল ফটকের বাইরে চলে আসে
আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মাদরাসার এক শিক্ষক। মা-বাবার সঙ্গে মূল ফটকের বাইরে কেন গিয়েছে শুধু এই কারণে শিশুটিকে বেত দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। আর শিশুটি বাঁচার আকুতি জানাতে থাকে। তারপরেও ক্ষান্ত হননি ইয়াহিয়া। অনবরত চলে তার পিটুনি।

এ সময় শিক্ষার্থীদের কেউ একজন ওই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করলে, নির্মম নির্যাতনের প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেন নেটিজেনরা।

এই ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে মোজাম্মেল হক চৌধুরী লিখেন, ‘এসব শিক্ষক নামধারীরা মানুষ না পশু? এরা কি মানুষ গড়ার কারিগর না মানুষ মারার কারিগর? এই নিরীহ শিশু বাচ্চাটির উপর তার এত রাগ, এত ক্রোধ কেন?’

ফেসবুক ব্যবহারকারী সাজ্জাদ মাহমুদ লিখেন, ‘ছাত্র দোষ করলে এভাবে মারধর কখনো শাসন হতে পারে না। এখানে যা করা হচ্ছে তা পুরোপুরি জুলুম। কর্তৃপক্ষের উচিত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া।’ তারিক নামে একজন লিখেন, আমরাও মাদ্রসায় পড়েছিলাম, আমাদের ওস্তাদগণ এত পাষণ্ড ছিলেন না!!

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘স্থানীয় একজন শিশুটিকে প্রহারের ঘটনা আমাকে জানান। ইতোমধ্যে বিষয়টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। আমি তাৎক্ষণিক হাটহাজারী থানার একটা টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে চকলেট নিয়ে যাই। বাচ্চাটির সঙ্গে কথা বলি এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব এমন সময় ছাত্রের বাবা-মা এসে কান্নাকাটি করেন এবং শিক্ষককে ক্ষমা করে দিয়েছেন বলে জানান।’