একটি গ্রাম থেকে একটি দেশ মাদকমুক্ত বাংলাদেশ : পুলিশ সুপার

মোঃ আব্দুল কালামঃ জেলা প্রশাসক বেগম নাজিয়া শিরিন বলেছেন, যারা জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস ও মাদকের সাথে জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জঙ্গিবাদ এখন আর মাথাছাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। ফেইসবুকে গুজব রটনাকারীরা কখনও সুন্দর মানসিকতার লোক নয়। এরা দেশের শত্রু। এদেরকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে। ফেইসবুকে পোস্ট পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। আপনারা গুজবে কান দিবেন না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ব্যক্তি কখনও খারাপ কাজ করতে পারে না। গুজব একটা আবেগের জায়গা আর আবেগের বর্শবর্তী হয়ে ফেইসবুকে ভুল তথ্য শেয়ার দিয়ে জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীরা দেশের শত্রু।

এদের সামাজিক ভাবে বয়কট করতে হবে৷ এক ধরনের অসাধু চক্র নিজেদের অসৎ স্বার্থ হাসিলের প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আপনারা যদি সচেতনতার সাথে এগোলো শক্তহাতে প্রতিহত করেন তাহলে কুচক্রীমহলের চেষ্টা সফল হবে না। সকলের ঐকবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই অসাধু চক্রকারীদের প্রতিহত করা সম্ভব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ডাকে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাশের লাঠি হাতে নিয়ে যারা দেশ স্বাধীন করেছে তাদের কাছে আমরা চিরঋণী। এ ঋণ শোধ হবার নয়। আমি যতদিন মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্বে কাজ করে যাবো ততদিন জেলার সাধারণ মানুষের যাতে কোনো ধরনের কষ্ট না হয় যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারে কাজ করে যাবো দুর্বার গতিতে। জেলার সকল জনসাধারণের জন্য জেলা প্রশাসনের দরজা ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে ।আপনাদের সকলের সহযোগিতায় জেলাবাসীর উন্নয়নে কাজ করে যাবো।  মৌলভীবাজারের মানুষের মত শান্তিপ্রিয় মানুষ আর কোনো জেলায় আমি দেখতে পাইনি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার আর বেশি দেরী নেই। দেশ অনেক এগিয়ে গেছে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আজ বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে।মাদক জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদী আর গুজবরটনা কারীদের প্রতিহত করতে তিনি সকলকে উদাত্ত আহবান জানান।

অন্যদিকে সভার সভাপতির বক্তব্যে মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার) বলেছেন, আজকের এই মাদক, সন্ত্রাস জঙ্গীবাদ, গুজব সম্পর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় আমার সামনে হয়তো সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন প্রতিনিধি রয়েছেন কিন্তু আমি মনে করি আমার সামনে আছে ৩ থেকে চার লক্ষ মানুষ। আপনাদের কাছে আমার একটা ম্যাসেজ আছে যার প্রথম ম্যাসেজ হলো মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স রয়েছে। মাদকের সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া,হবে না। মাদকের সাথে যেই সম্পৃক্ত থাকুক না কেন যদি আমার কাছে নোটিশ আসে তাহলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমার কর্মকালীন সময়ে আমি এটা বরদাস্ত করবো না। জেলা প্রশাসক বলেন আর রাজনীতিবীদ বলেন সবাই এ ব্যাপারে আমাকে আশস্থ করেছেন। তিনি আরো বলেন মাদক নিয়ে একটি স্লোগান নির্ধারণ করেছি ” একটি গ্রাম থেকে একটি দেশ মাদকমুক্ত বাংলাদেশ। একটা একটা করে ইউনিয়ন ধরবো প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ব্যবসায়ীদের চুড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে।

আমরা অচিরেই জেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে পুরোজেলাকে মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলবো৷ তিনি আরো বলেন চা অধ্যুষিত পর্যটন সমৃদ্ধ এতো সুন্দর জেলা আমি আর দেখিনি। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে পুলিশের টহলের ব্যবস্থা করতে চাই।

জনগনের নিরাপত্তা প্রদান নিশ্চয়তার জন্যে আমার সেরাটা দিয়ে কাজ করে যাবো। আমি যতদিন এ জেলায় থাকবো ততদিন কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়ী, মাস্তানী আর গুজব রটনা কারীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মসজিদের ইমামদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে প্রত্যেক শ্রক্রবারে গুজব, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ আর মাদকের কুফল সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য।মৌলভীবাজারের মত শান্তির জেলা আর কোথাও দেখিনি এ জেলার জনসাধারণ অত্যন্ত সচেতন ও শান্তিপ্রিয়।

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গুজব রটনাকারীদের প্রতিহত করা সম্ভব। তিনি জেলার সকল জনসাধারণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গুজবে কান দিবেন না।গুজব, সন্ত্রাস, মাদক জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৩ টা ৩০ মিনিটের দিকে জেলা পুলিশ মৌলভীবাজারের আয়োজনে শহরের পৌর জনমিলন কেন্দ্রে মাদক,সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ ও গুজব সম্পর্কে সচেতনতামূলক মতিবিনিময় সভার এসব কথা বলেন।মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ( তদন্ত) পরিমল চন্দ্র দেব এর পরিচালনায় মতিবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি আজমল হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাউর রহমান, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফজলুল আলী, পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব আব্দুল কাদির, যোদ্ধাহত মুক্তযোদ্ধা আব্দুল মুহিদ টুটুল,আওয়ামীলীগ সদস্য আক্তারুজ্জ্মান একাটুনা  ইউপির চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান, মাওলানা জামিল আহমদ আনসারী, মাও: ময়নুল হক  প্রমুখ। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য এবং সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।