সাবেক এমপি আব্দুল জব্বারের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী পালিত

কুলাউড়া প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক এমপি, বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাবেক  সভাপতি মরহুম আব্দুল জব্বারের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে।

রোববার ১৭ নভেম্বর রাতে মরহুমের নিজ বাড়ি কুলাউড়ার আলালপুর গ্রামে মিলাদ, দোয়া ও শিরনী বিতরণের মাধ্যমে তাকে স্মরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন- সাবেক এমপি আব্দুল মতিন, কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু, মরহুমের পুত্র প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার আবু জাফর রাজু, কুলাউড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, কুলাউড়া থানার ওসি ইয়ারদুস হাসান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুমের পুত্র আসম কামরুল প্রমুক। পরে কেক কেটে জন্মদিন পালন করা হয়।

১৯৪৫ সালের এই দিনে কুলাউড়ার এক ধর্নাঢ্য মুসলিম পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মরহুম এই রাজনীতিবিদের এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনগক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবারের হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ করায় আব্দুল জব্বার একাধিকবার গ্রেফতারের পাশাপশি নির্মম নির্যাতনের শিকার হোন। রাজনৈতিক কারনে তিনি দীর্ঘ কারাবাসে ছিলেন। সেই সময় প্রথমবার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে পুনরায় সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করলে আবারও কুরবানী ঈদের রাতে গ্রেফতার হন আব্দুল জব্বার।

পরিবার সূত্র থেকে জানা যায়, কারাগারে থাকাকালীন বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর নুর তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। তবে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরী তাকে উদ্ধার করেন।

জানা যায়, ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনে ৬ মাস, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর ১১ মাস, ১৯৭৭ সালে এক বছর কারাবরণ করেন আব্দুল জব্বার। আব্দুল জব্বার ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ এর ছয় দফা, ৬৯’র গণ অভ্যূত্থান, ৭০’র নির্বাচন এবং ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

আব্দুল জব্বারের দ্বিতীয় পুত্র বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ দায়িত্ব পালন করছেন। তৃতীয় ছেলে আসম কামরুল ইসলাম কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন বর্তমানে নবগঠিত কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

আব্দুল জব্বার কুলাউড়া থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক (১৯৬৪)। এছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, মৌলভীবাজার রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সহ-সভাপতি এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি কুলাউড়া থানার আহবায়ক ছিলেন। ১৯৯২ সালের ২৮ আগস্ট শোকের মাসে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মারা যান তিনি।

বলেও জানান তিনি।