কমলগঞ্জে দুই সম্প্রদায়ের মাঝে প্রেম অবশেষে বিয়ে

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা বাগানে গোয়ালা ও রাজভর এই সম্প্রদায়ের দুই উচ্চ শিক্ষিতের মাঝে গড়ে উঠে প্রেমের সর্ম্পক। অবশেষে আবদ্ধ হলেন বিবাহ বন্ধনে। ১ ডিসেম্বর সাত পাকের মাধ্যমে এ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় চা বাগান সূত্রে জানা যায়, শমশের নগর চা বাগানের সুর নারায়ন গোয়ালার ছেলে নারায়ন গোয়ালা(২৮) একই এলাকার সুর নারায়ন কর্মীও মেয়ে বাসন্তী রাজভর দুজনেই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। বাসন্তী মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী ও নারায়ন উচ্চ শিক্ষিত চা বাগানের স্টাফ রয়েছে।

১ বছর পূর্বে ছেলের অভিবাবক বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে মেয়ের বাড়ীতে যায়। এ প্রস্তাবে মেয়ের পরিবার একমত না হয়ে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। এর পর থেকে দুজনের মধ্যেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সিদ্ধান্ত নেয় দুজনে সামাজিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন। কিন্তু দুই সমাজ দুজনেই অটল আনুষ্টানিক ভাবেই বিয়ে করার। এ সব দেখে কনের পরিবারের সমাজ কিছুটা নমনীয় হলেও বাঁধা রয়েছে বরের পরিবারের সমাজ।

ছেলের পরিবারের সমাজ কোন মতেই যখন মানতে রাজি নয় তখন ছেলে নারায়ন গোয়ালা একক সিদ্বান্ত নিয়ে বিয়ে করার। তাই গত ১ লা ডিসেম্বর সাত পাকে আবদ্ধ হল তাদের বিয়ে। অবশেষে প্রেমের জয়। বিয়ের বৌভাতে ছুটে আসেন শতশত মানুষ। সকলের মুখেই প্রসংসার আর তার সততা, প্রতিজ্ঞা পুরন করে মানুষের হ্রদয়ে স্থান করে নিল নারায়ন গোয়ালা। এ নিয়ে আলোচনা ও প্রশংসার ঝড় উঠে শমশের নগর চা বাগানে।

বর নারায়ন গোয়ালা জানান, সমাজের উর্ধে নয়। সামাজ ছাড়া চলা যাবে না। কিন্তু বিবেকের উপর সমাজ নয়। সমাজকে সব সময় শ্রদ্ধা করি তা করে যাব। সে আরও জানায়, সমাজ আমাকে আবার সমাজবদ্ধ করবে এটা আমার বিশ্বাস। তবে এসব আমাদের পারিবারিক বিষয়।

কনে বাসন্তী রাজভর জানায়, এটা প্রেমের নয় তবে সামাজিকভাবে বিয়ে না হওয়াতে প্রেমের ঘটনা ঘটে সাত পাকের মাধ্যমে বিয়ে সম্পূর্ণ হয়। দম্পতি সুখী হয়ার জন্য সকলের নিকট আশির্বাদ ছেয়েছে বাসন্তী রাজভর।

শমশের নগর ইউপি সদস্য সীতারাম বীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিয়ের প্রস্তাবে দুই সম্প্রদায়ের বিভক্ত দেখা দেয়। এর পর থেকে দুই উচ্চ শিক্ষিত দুজনের মধ্যেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক বছর পর সাত পাকের মাধ্যমে দুজনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।