বড়লেখায় ডাকঘরগুলো যেন পরিত্যক্ত ঘর : মাস্টারদের দায়সারা দায়িত্ব পালন

আব্দুর রব: বড়লেখায় শাখা ডাকঘরগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও বেহাল। দেখলে মনে হয় এগুলো যেন দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত কোন ঘর। এসব শাখা ডাকঘর থেকে জনগণ ডাক সেবা পাওয়াতো দুরের কথা, মাসের পর বন্ধ থাকে এসব সরকারী প্রতিষ্ঠান। দায়সারা দায়িত্ব পালন করেন ডাকঘরগুলোর নিয়োগপ্রাপ্ত মাস্টাররা। বছরের পর বছর অনেকে এমপিওভুক্ত স্কুল-মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি পোস্ট মাস্টারেরও চাকরী চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই পদেই তারা বেতন-ভাতা ভোগ করছেন। এতে ডাক বিভাগের সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জনসাধারণ।

প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে সাধারণ চিঠিপত্রের আদান-প্রদান প্রায় বন্ধ হয়ে গেলেও আদালত, ব্যাংক-বীমাসহ সরকারী ও আধা-সরকারী প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়েল চিঠিপত্র এখনও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ডাক বিভাগের ওপর নির্ভরশীল। কিন্ত সঠিক সেবা প্রদানে সংশি¬ষ্ট বিভাগের সুদৃষ্ঠি না থাকায় ভুক্তভোগীরা সেবা বঞ্চিত ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

জানা গেছে, বড়লেখায় ১১টি শাখা ডাকঘর রয়েছে। এগুলোর মধ্যে তালিমপুর শাখা ডাকঘর, বড়লেখা পুরাতন বাজার শাখা ডাকঘর, সুজাউল মাদ্রাসা শাখা ডাকঘর, গোদামবাজার, পাকশাইল, ডিমাই বাজার, চান্দগ্রাম বাজার শাখা ডাকঘরের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক, জরাজীর্ণ ও বেহাল। দেখলে মনে হয় এগুলো যেন অনেক বছরের পরিত্যক্ত কোন ঘর। এসব শাখা ডাকঘরের কে মাস্টার, কে চিঠি বিলিকারী ও কে ডাক হরকারী তা জানেন না সাধারণ জনগণ।

সরেজমিনে তালিমপুর শাখা ডাকঘরে গিয়ে তা তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরিত্যক্ত ডাকঘরটির সামনে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়, আগাছা আর লতা-পাতায় ঢাকা। বছরেও এ ডাকঘরে কোন মানুষের যাতায়াত হয়েছে বলে মনে হয়নি। স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আতিকুর রহমান জানান, নিজস্ব ভুমি না থাকায় তালিমপুর দাখিল মাদ্রাসায় এ ডাকঘরের কার্যক্রম চলতো। ১৯৯০ সালে তৎকালিন পোস্ট মাস্টার মৃত আব্দুল আহাদ দেড় শতাংশ ভুমি ডাকঘরের নামে দানপত্র করে নিজেই ঘর তৈরী করেন। প্রায় ১০ বছর ধরে ডাকঘরটি ব্যবহার অনুপযোগী নোংরা অবস্থায় থাকলেও ডাক বিভাগ এর সংস্কার করেনি। পোস্ট মাস্টার সাইদুর রহমান স্থানীয় তালিমপুর বাহারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষক। সফিক উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে ডাকঘরের পাশের একটি দোকানে বসিয়ে তিনি চিঠিপত্র বিলি করান। তিনিও মাঝে-মধ্যে আসেন। সুজাউল মাদ্রাসা শাখা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আব্দুস শাকুর ওই মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত অফিস সহকারী। মাদ্রাসার চাকরীর সাথে তিনি মাদ্রাসায় বসে পোস্ট মাস্টারেরও ডিউটি করেন ! বছরের পর বছর ধরে এ শাখা ডাকঘরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বড়লেখা পুরাতন বাজার শাখা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার প্রদীপ দাস পৌরশহরে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে চাকরী করায় ডাকসেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত ওই এলাকার জনসাধারণ। চান্দগ্রাম শাখা ডাকঘরের সামনের ড্রেন ময়লার ভাগাড়। কয়েক বছর ধরে ঘরটি ঝোপঝাড়ে ঢেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও নেই সংস্কারের কোন উদ্যোগ। পোস্ট মাস্টার সামছুল ইসলাম (মন্টু মাস্টার) ব্যক্তিগত হোমিওপ্যাথি ফার্মেসীতে বসে চালান এ শাখা ডাকঘরের কার্যক্রম।

ডাক বিভাগের পরিদর্শক (কুলাউড়া) লিপটন রায় জানান, তালিমপুর বাহারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইদুর রহমান গত ১ অক্টোবর পোস্ট মাস্টারের পদ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন। তা অনুমোদনের অপেক্ষায়। আর কোন পোস্ট মাস্টার অন্য চাকরীতে আছেন বলে তার জানা নেই। বড়লেখার শাখা ডাকঘরগুলোর জরাজীর্ণ ও বেহাল অবস্থার সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, ইতিমধ্যে তিনি পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরী করেছেন। প্রয়োজনী সংস্কারের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে সুপারিশ করেছেন।