কী আছে সিলেট বিভাগের ৬ আ.লীগ নেতার ভাগ্যে?

বাংলার দিন ডেস্ক: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন শুরু হচ্ছে শুক্রবার। দুই দিনের এই সম্মেলন শেষ হবে আগামীকাল শনিবার। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দেশের বৃহৎ এই রাজনৈতিক দলটির কেন্দ্রে নতুন কমিটি আসার কথা। সিলেট বিভাগের ছয় নেতা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটিতে আছেন।

তন্মধ্যে দুইজন উপদেষ্টা, একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক একজন এবং নির্বাহী সদস্য দুইজন।

এঁরা হলেন উপদেষ্টা আবুল মাল আব্দুল মুহিত এবং ইনাম আহমদ চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, নির্বাহী সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও অধ্যাপক রফিকুর রহমান। এঁদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেট জেলার, শুধুমাত্র রফিকুর রহমানের বাড়ি মৌলভীবাজারে।

জানা গেছে, আবুল মাল আব্দুল মুহিত দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। তিনি অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ ছিলেন। জাতীয় সংসদে সবচেয়ে বেশিবার বাজেট পেশের রেকর্ড তাঁর। সিলেট-১ আসনের বর্তমান সাংসদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের বড় ভাই মুহিত।

এদিকে, ইনাম আহমদ চৌধুরী আগে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন ইনাম। মনোনয়ন না পেয়ে তিনি বিএনপি ছেড়ে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। পরে চলতি বছরের জুলাই মাসে তাঁকে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, এবার দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ৪১ থেকে বাড়িয়ে ৫১ জনে উন্নীত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়েছে। একদিকে মুহিত ও ইনাম বয়সে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ, অন্যদিকে বাড়ছে উপদেষ্টা পরিষদের সংখ্যা। এ দুইয়ে মিলে এবারও তাঁরা উপদেষ্টা পরিষদে টিকে যেতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকেই।

এদিকে, সিলেট-৬ আসনের সাংসদ নুরুল ইসলাম নাহিদ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান সরকারের গেল দুই মেয়াদে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব ছিল নাহিদের কাঁধে। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠন করার পর তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর তিনি প্রেসিডিয়াম সদস্য থেকে উপদেষ্টা পরিষদে জায়গা পেতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এমন গুঞ্জনও আছে, শিগগিরই মন্ত্রিসভায় রদবদল ঘটবে। এক্ষেত্রে নাহিদকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। তবে সেজন্য দলের প্রেসিডিয়াম পদ ছাড়ার শর্ত সামনে থাকতে পারে নাহিদের।

জানা গেছে, এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম দুই মেয়াদে তিনি সিলেট বিভাগীয় দায়িত্ব পালন করেন। চলতি মেয়াদে ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অবশ্য সিলেট বিভাগেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। তবে জোর গুঞ্জন, এবারের সম্মেলনের পর মিসবাহ সিরাজকে আর সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রাখা হচ্ছে না। তাঁকে অন্য কোনো দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য পদে থাকা বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতিও। তবে গেল ৫ ডিসেম্বর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তিনি মহানগরের সভাপতির পদ হারান। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলনের পর নির্বাহী সদস্য হয়েছিলেন কামরান। সিলেটের সাবেক এই মেয়রকে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে কানাঘুষা আছে।

অন্যদিকে, অধ্যাপক রফিকুর রহমানতে আওয়ামী লীগের গেল জাতীয় সম্মেলনের পর নির্বাহী সদস্য করা হয়। বর্তমানে তিনি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। দলে এবার রফিকুরের পদোন্নতির আশা করছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা।

তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দলে কে কোন পদ পাবেন, তা দলের মধ্যে একমাত্র সভানেত্রী শেখ হাসিনাই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে এমনকি দলের সাধারণ সম্পাদকও কিছু জানেন না।