জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রাণের দাবি….

সকাল থেকে মধ্য রাত সিলেটের এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে নেতাকর্মীর সুখে দুঃখে ছুটে যাওয়া নেতার নাম শফিকুর রহমান চৌধুরী।

যুক্তরাজ্যের বিলাসবহুল জীবন তাঁকে জনগনের কাছ থেকে দূরে রাখতে পারেনি, সহধর্মিণী আর তিনকন্যাসহ গোটা পরিবার যুক্তরাজ্যে। পরিবার পরিজন সবকিছু দূরে ঠেলে তিনি পড়ে আছেন নিজ মাতৃভূমিতে। স্বদেশ এবং স্বদেশের মানুষের কাছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আদর্শ বাস্তবায়নে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

জন্মসূত্রে আওয়ামী পরিবার থেকে বেড়ে উঠা এই মানুষটির একমাত্র ইচ্ছাই হলো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মান করা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকার, বাংলার সফল প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হয়ে এই সিলেটের মানুষের সেবা করা এবং সেটা তিনি করেও যাচ্ছেন।

ধর্মের প্রতি অনুগত এই মানুষটির দিন শুরু হয় ফজরের নামাজ পড়ে এবং শেষ হয় তাহাজ্জুদ এর নামাজ পড়ে। এরইমধ্যে চষে বেড়ান সিলেটের প্রতিটি উপজেলা, পাড়ামহল্লায়, অলি থেকে গলিতে। তৃণমূলের সকল সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁর টিলাগড়ের বাসায় সকাল থেকে কর্মীদের ভিড় থাকে। উনি সবার সমস্যা শুনেন এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেন। তাকে তৃনমূলের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়। এসব কারনে ‘শফিক চৌধুরী’ নামটি তৃনমুল এর কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

আওয়ামী লীগকে ভালোবেসে গুনতে হয়েছে অনেক মাশুল। ১/১১ সহ বারবার হয়েছেন কারা-নির্যাতিত। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে জনগনের মেন্ডেট নিয়ে বিএনপির দু্র্গ খ্যাত বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর থেকে তৎকালীন বিএনপির ত্রাস খ্যাত ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্য। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচনী এলাকায় করেছেন ব্যাপক উন্নয়ন, বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরকে উন্নয়ন এর রোল মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

তার নির্বাচনী আসনে ১০০ এর অধিক প্রতিটি প্রায় কোটি টাকা মূল্যের প্রাইমারি স্কুলের ভবন নির্মাণ করে করেছেন শিক্ষার ব্যাপক প্রসার। শফিক চৌধুরী এমপি থাকাকালেই একনেকে বিশ্বনাথ উপজেলায় গ্যাস সংযোগের বিল পাস করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আবার প্রবাসীসহ বিশ্বনাথবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী বিশ্বনাথকে পৌরসভায় উন্নীত করনের কাজ শফিকুর রহমান চৌধুরীর হাত ধরে শুরু হওয়ার পর সম্প্রতি বাস্তবায়ন হয়েছে।

তার নিজ মেধা ও মননে জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে উনাকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন। জননেত্রীর দেয়া গুরুদায়িত্ব পালন করতে ছুটে চলেন সিলেটের ১৩ উপজেলায়, সুসংগঠিত করেন আওয়ামী লীগকে। সিলেটের আওয়ামীলীগ কে সুসংগঠিত করার পুরস্কার হিসাবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাকে ‘২৪ ঘন্টার রাজনীতিবিদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে আবারো দলীয় মনোনয়ন পান শফিক চৌধুরী। কিন্তু বিএনপি-জামাতের তান্ডব থেকে দেশকে রক্ষা করতে, জাতীয় স্বার্থে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে মহাজোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠে কাজ করেন এবং মহাজোটের প্রার্থীর বিজয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে জাতীয় স্বার্থে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনেও প্রার্থী হন নি। আমাদের মতো শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিশ্বাস বারবার দলের জন্য এ ত্যাগ একদিন উনাকে সাফল্যের চুড়ান্ত লক্ষ্য পৌঁছে দিবে ইনশাআল্লাহ।

বিগত ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ এর সম্মেলনে অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমানকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দীন খান কে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর ২১তম জাতীয় সম্মেলনে শফিকুর রহমান চৌধুরীকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করার জন্য বাংলার শেষ আশ্রয়স্থল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সভানেত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

লেখক: কাওছার আহমদ
সাবেক সদস্য সিলেট জেলা ছাত্রলীগসহ-সভাপতি বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগ।