স্মরণকালের সবচেয়ে বড় উৎসব আওয়ামীলীগের

বাংলার দিন ডেস্কঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুই দিনব্যাপী ২১তম জাতীয় সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ। বিকাল ৩টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশন কাল শনিবার সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের জাতীয় কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের স্লোগান হচ্ছে, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ, এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ’। জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে প্রায় ৭ হাজার কাউন্সিলর অংশ নেবেন। এ সম্মেলনে কাউন্সিলর, ডেলিগেটসহ ৪৫ হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত থাকবেন। ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশমুখে যেমন বিমানবন্দর, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড ও ব্যানারের মাধ্যমে অতিথি ও কাউন্সিলরদের স্বাগত জানানো হবে। সম্মেলনস্থলে নেতা-কর্মীদের প্রবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাঁচটি গেট করা হয়েছে। একটি গেট ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত। ৮১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির চারটি পদ শূন্য থাকায় মূল মঞ্চে চেয়ার থাকবে ৭৭টি। মঞ্চের সামনে নেতা-কর্মীদের জন্য চেয়ার থাকবে ৩০ হাজার। এ ছাড়া সম্প্রসারিত মঞ্চে ১৫ হাজার চেয়ার দেওয়া হবে। ২৮টি এলইডি পর্দায় দেখানো হবে সম্মেলনের পুরো অনুষ্ঠান। বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবীসহ অন্যসব পেশার বিশিষ্টজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে অতিথিদের তালিকা তৈরি করে সম্মেলনের কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন দলের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে পাল্টে গেছে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশ এলাকায়। অপরূপ সাজে সাজানো হয়েছে গোটা এলাকায়। এর বাইরেও ঢাকা জুড়েই সম্মেলনের ছাপ রয়েছে। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উত্তর-দক্ষিণমুখী করে সাজানো মূল মঞ্চটি দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে করা হয়েছে। পদ্মানদীর বুকে ৪০টি স্প্যানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিদর্শন রাখা হয়েছে মঞ্চে। পদ্মা সেতুর নিচে জলরাশিতে ভাসছে ছোট বড় নৌকা। একটি ছোট জাহাজও। একপাশে চর ও কাশবন। পদ্মা সেতুর ওপর বিশালাকৃতির দলীয় প্রতীক নৌকা। জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি ধারণ করেছে নৌকাটি। নৌকাটির মাঝে বড় করে লেখাÑ ২১তম জাতীয় সম্মেলন ২০১৯। মূল মঞ্চটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, দেখলে মনে হবে, যেন পদ্মা নদীর বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে বিশাল এক নৌকা। জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতির সঙ্গে থাকবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার ছবি। নৌকার পেছনের দিকে থাকবে জাতীয় চার নেতাসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামে বিভিন্ন সময়ে অবদান রাখা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছবি। টিএসসি সংলগ্ন গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই একদিকে চোখে পড়ে বঙ্গবন্ধুর বিশাল আকারের ছবি, আরেক দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। লেকের পাড়ে দলটির ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে করা হয়েছে চিত্র প্রদর্শনী। ১৯৪৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নানা সাফল্য ও চড়াই-উতরাইয়ের খবর চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। উদ্যানের ভিতর বেশ কয়েকটি স্থানে দলীয় প্রতীক বিশাল আকারের নৌকা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের গেট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে ছয়টি নৌকা। উদ্যানের গাছে গাছে লাগানো হয়েছে মরিচবাতি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। মৎস্যভবন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে শোভা পাচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। পাশাপাশি লাগানো হচ্ছে আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাে র চিত্রসংবলিত ফেস্টুন। আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রতিনিধিদের মধ্যে ২৫ হাজার পাটের ব্যাগ বিতরণ করা হবে। প্রতিটি ব্যাগে আওয়ামী লীগের ইতিহাস সংবলিত স্মরণিকা, শোকপ্রস্তাব, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের ভাষণ, গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র থাকবে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন চিত্রের একটি পকেটবুক, আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও বিএনপি-জামায়াতের নেতিবাচক রাজনীতির ভিডিও, চকলেট ও একটি পানির বোতল থাকবে ব্যাগে। আজ সম্মেলনের প্রথম দিনের ৪৫ হাজার খাবারের ব্যবস্থা থাকছে। খাবারের প্যাকেটে থাকবে মোরগ পোলাও, ডিম, পানির বোতল ও ফিন্নি। সম্মেলন উপলক্ষে ১০০ চিকিৎসক নিয়ে ১২টির মতো প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র প্রস্তুত করছে স্বাস্থ্য উপকমিটি। সম্মেলন স্থানে কূটনীতিকদের জন্য বিশেষ স্টল স্থাপনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সম্মেলনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনের পর ২৫ মিনিটের একটি উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করা হবে। সেখানে তুলে ধরা হবে আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য। ইতিহাসভিত্তিক ১০ স্থাপনা নিয়ে থাকবে সিআরআই : সম্মেলনে ইতিহাসভিত্তিক ১০টি স্থাপনা নিয়ে উপস্থিত থাকবে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার লক্ষ্যে এ আয়োজন। সিআরআইর সমন্বয়ক তন্ময় আহমেদ জানান, ২১তম জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে ভিন্নভাবে ভাবছে আওয়ামী লীগ। আর সে কারণেই আমাদের এ আয়োজন। প্রতিটি স্থাপনার প্রদর্শনীতে থাকছে ভিন্নতা। আশা করছি তা উপস্থিত সবার ভালো লাগবে। আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে অলংকৃত করা স্থাপনাগুলোর একটি ‘ওয়াক উইথ লিডার’। এখানে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র তারুণ্যের অহংকার সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি থাকবে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০তম কাউন্সিলের প্রতিটা ইতিহাস সুনিপুণভাবে উপস্থাপনা করা হবে ‘রোড টু ২১ কাউন্সিল’ নামের স্থাপনায়। ‘লাইট আফটার ডারকনেস’ নামের স্থাপনায় ১৯৭৫ সালে জাতির পিতার হত্যাকাে র পরে কীভাবে আওয়ামী লীগ এক ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসেছে তার ইতিহাস দেখা যাবে। আওয়ামী লীগের জন্ম ও ধীরে ধীরে বর্তমান অবস্থানে আসার পূর্ণ ইতিহাস তুলে ধরা হবে ‘এএলবিডি ইনফন্ট অফ এ মিরর’ নামের স্থাপনায়। এ ছাড়া এখানে আরও দেখা যাবে ২০তম কাউন্সিলের ছবি এবং একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভার ছবি। বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার উল্লেখযোগ্য ছবি ও উক্তি দিয়ে জীবনীও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।