গুড়ি গুড়ি বৃষ্ঠিতেও মাধবকুণ্ডে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড়

আব্দুর রব॥ দেশের প্রধান প্রাকৃতিক ঝর্ণা ও দ্বিতীয় বৃহত্তম ইকোপার্ক মাধবকুণ্ডে প্রতিকুল আবহাওয়া উপেক্ষা করেও ব্যাপক পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন। বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত প্রকৃতি প্রেমীদের তেমন আনাগুনা না থাকলেও তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে দেশি-বিদেশী পর্যটকের সমাগম বাড়তে থাকে।

জানা গেছে, পাথারিয়া পাহাড়ের পাদদেশে আকাবাকা পাহাড়ি ছড়া বেয়ে ৫০-৬০ মিটার উচু থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে কুণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ের কান্নার সেই পানি গড়িয়ে পড়ার মনোরম দৃশ্য দেখতে দেশ বিদেশের পর্যটকরা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে ভিড় করেন। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রকৃতি প্রেমী মানুষ নির্মল বাতাস, সুবজের সমারোহ, মনোমুগ্ধকর পাহাড়ি পরিবেশের সান্নিধ্য পেতে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও ইকোপার্কে ছুটে আসেন। জরাজীর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীন রাস্তার ভুমি ধস, স্থানীয় অসাধু ব্যবসায়ী আর বখাটেদের নানা উৎপাত ও হয়রানীর কারণে গত ৩-৪ বছর মাধবকুণ্ডে পর্যটকের সমাগম অনেকটা কমে যায়। গত ২ বছর ধরে  বন বিভাগ, পর্যটন পুলিশ আর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের বিশেষ নজরদারীর কারণে পর্যটক হয়রানী অনেকটা বন্ধ হওয়ায় দেশের অন্যতম এ পিকনিক স্পট হারানো জৌলস ফিরে পাচ্ছে।

২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিকুল আবহাওয়ায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্ঠি উপেক্ষা করে সকাল থেকেই পর্যটকবাহী ব্যাপক যানবাহন জড়ো হতে। কনকন শীতের মধ্যেও দেশের দুরদুরান্ত থেকে আগত নানা শ্রেণীর লোকজন জলপাতে ভিড় করেছেন। তারা সাচ্ছন্দ্যে আনন্দ-আমোদ হুই হুল্লোড় করছেন। রাজনগরের স্কুল মাস্টার মোশাহিদ আলম, ঢাকার ভার্সিটি ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার, খুলনার ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান সহ আগত অনেকে জানালেন বছরের শেষ দিনগুলোকে স্মৃতিময় করতে তারা গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন পিকনিক স্পটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। গত ৩-৪ বছর পূর্বে মাধবকুণ্ড সম্পর্কে পত্রপত্রিকায় অনেক নেতিবাচক তথ্য পেয়েছেন। অনেকটা উদ্বেগ-আতঙ্ক নিয়েই এবার এখানে আসেন। কিন্তু বাস্তবে মাধবকুণ্ডে এসে এসবের কিছুই পাননি। পর্যটক পুলিশসহ এখানকার সকলেই তাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। মাধবকুণ্ড বেড়াতে এসে তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশ কম্পোর্ট ফিল করেছেন।

বনবিভাগের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারী মাধবকুণ্ডে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য পর্যটক পুলিশ, বনবিভাগ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আগত পর্যটকরা যাতে কোন ধরণের সমস্যায় না পড়েন এবং কোন হয়রানীর শিকার না হন সে ব্যাপারে সতর্ক রয়েছেন।

থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়াছিনুল হক জানান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও ইকোপার্ক বড়লেখায় অবস্থিত হলেও এটি জাতীয় গুরুত্বপুর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। এজন্য এখানকার আগত পর্যটকের নিরাপত্তাসহ মাধবকুণ্ডের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশের সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারী রয়েছে।