মৌলভীবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের উদ্যোগে শনিবার সাকালে পর্যন্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মুহম্মদ আলী আহসান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত কনফারেন্সে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল জনাব মোঃ জিয়াউর রহমান; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পিবিআই জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম; অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ বাহাউদ্দিন কাজী; সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ; কমান্ডিং অফিসার, র‌্যাব-৯, শ্রীমঙ্গল-এর প্রতিনিধি; জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক; অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল; সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি মেডিকেল অফিসার; জেল সুপারের প্রতিনিধি জেলার; ইন্সপেক্টর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর; বিভাগীয় বন কর্মকর্তার প্রতিনিধি সহকারী বন সংরক্ষক, জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (ওজঝঙচ); কোর্ট ইন্সপেক্টর; ট্রাফিক ইন্সপেক্টর; ইন্সপেক্টর, সিআইডি এবং জেলার বিভিন্ন থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। কনফারেন্সের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মুহম্মদ আলী আহসান মৌলভীবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলাসমূহের সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য বিচারক ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিভিন্ন ধরনের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

কনফারেন্সে বিভিন্ন থানার মূলতবী পরোয়ানার বিবরণ তুলে ধরে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বলেন যে, পরোয়ানা জারির ক্ষেত্রে আরও তৎপর হওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন থানা থেকে আগত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন। বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুততা ও দক্ষতার সাথে আইনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করত: প্রতিবেদন দাখিল, যথাসময়ে মামলার সাক্ষী উপস্থাপন নিশ্চিত করত: তাদের নিরাপত্তা বিধান, গ্রেফতারের পর আইনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল, মৌলভীবাজার তার বক্তব্যে মামলার তদন্তের সময় ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারার বিবৃতি লিপিবদ্ধকরণ ও জব্দ তালিকা প্রস্তুতসহ অন্যান্য কার্য সতর্কতার সাথে সম্পাদন করার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তার বক্তব্যে বলেন যে, বর্তমানে

আদালতে এ.পি.পি-এর স্বল্পতা রয়েছে। নতুন এ.পি.পি নিয়োগ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। নতুন এ.পি.পি নিয়োগ হলে প্রত্যেক আদালতে এ.পি.পি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

কনফারেন্সে উপস্থিত বক্তাগণ পুলিশ বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে মামলা নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষত: পুরাতন মামলা অধিক হারে নিষ্পত্তি হওয়ার সন্তোষ প্রকাশ করেন। এছাড়াও, বক্তাগণ দ্রুত গ্রেফতারী পরোয়ানা, হুলিয়া, ক্রোকী পরেয়ানা তামিল ও সমন জারীর ব্যবস্থা গ্রহণ, তদন্ত কার্যে বিদ্যমান সমস্যা সমাধান, তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার, হয়রানী বন্ধ, চ/গ রিপোর্ট ও গ/ঈ প্রদানের ক্ষেত্রে সর্তকতা অবলম্বন, নকলখানা হতে স্বল্পতম সময়ে নকল সরবরাহের ব্যবস্থা করা, মামলার আলামত সংরক্ষণ ও সঠিক নিয়মে নিষ্পত্তি, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও নিষ্পত্তিকৃত নথি দ্রুত রেকর্ডরুমে প্রেরণ, আদালত ও বিচার সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ নানাবিধ বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামতসমূহ কনফারেন্সে তুলে ধরেন।

বিভিন্ন থানা থেকে আগত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্যান্য উপস্থিতি কর্র্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার আইনি সমাধান, প্রশ্নোত্তর প্রদান এবং পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করত: সমাপনী বক্তব্যে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জনাব মুহম্মদ আলী আহসান বলেন যে, ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় বিচার প্রশাসন, নির্বাহী প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ একে অপরের পরিপূরক। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তরিকতা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে একযোগে ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে বিচার প্রার্থী মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে কারও অবহেলা কাম্য নয়। সামনের দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর পারষ্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় আরো গতিশীলতা আসবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করে আগত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘোষণা করেন বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মুহম্মদ আলী আহসান।