রাজনগর উপজেলায় ভুয়া কৃষক সিন্ডিকেট মিছিল করে ইউএনও-র বিরুদ্ধে । 

  1. স্টাফ রিপোর্টারঃ  , সরকারি ভাবে ধান ক্রয়ে দলীয় প্রভাব বিস্তার না করতে পারায় ইউএনও-র বিরুদ্ধে মিছিল করেন ভুয়া কৃষক  সিন্ডিকেট   ।
সরকার প্রান্তিক কৃষদের কথা বিবেচনা করে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে সরকারী ভাবে জেলা খাদ্য অধিদপ্তর  ও উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তর সময়োপযোগী মূল্য নির্ধারণ করে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান  সংগ্রহ করে থাকে , প্রকৃত কৃষক তাদের ন্যায্য মূল্য পান।  কিন্তু সরকারের সেই নির্দেশনা না মেনে অনেক সময় স্থানীয় প্রভাবশালী দলের স্বার্থ ভোগী  ও ক্রয় কতৃপক্ষ  তাদের নিজের মত করে নিয়ম বহির্ভূত কাজ করে থাকেন। যেমনটি করেছেন মৌলভীবাজার জেলার  রাজনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা (ওসি.এল.এস.ডি) অসিম কুমার সরকার সহ কয়েকজ ।
সরজমিনেে গিয়ে জানা যায়, প্রভাবশালী  দলের একটি গ্রুপের কিছু প্রভাবশালী লোকজনের সাথে খাদ্য কর্মকর্তা অসিম কুমার সরকার তার নিজস্ব সিন্ডিকেট করে প্রকৃত কৃষকের অনেকের নাম না দিয়ে  ভুয়া কৃষকের নাম দিয়ে কৃষক তালিকা তৈরী করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।  এ বিষয়ে   ক্ষুব্ধ হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফেরদৌসী আক্তার  ও  প্রকৃত আমন চাষীরা। বিষয়েটি তদন্তের জন্য ৩ সদস্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান বলে জানালেন ইউএনও ।
তালিকায় লটারিতে বিজয়ীদের মধ্যে অনেক ভুয়া কৃষককে বাতিল করে প্রকৃত চাষীদের ধান ক্রয়ে  নতুন তালিকা তৈরীতে বাদ পারছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ভুয়া কৃষকদের নাম। সরকারি ভাবে ধান ক্রয়ে  কৃষক তাদের ন্যায্য মূল্য পান সেই ব্যবস্থা করতে গেলে একটি মহল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর বিরুদ্ধে অপসারণের দাবী তোলে মিছিল করে।
সরজমিনে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান  প্রভাবশালী দলের দুটি গ্রুপের প্রশাসনে প্রভাব বিস্তারের সুবিধা নিতে একে অপরকে গায়েল করতে “উদোর পিন্ডি ভোদর গায়ে” চাপিয়ে দিতে প্রশাসনের প্রতি অর্থাৎ উপজেলা নির্বাহী অফিসার  (ইউএনও) এর প্রতি দোষ চাপাবার অংশ হিসাবে ভুয়া কৃষক তলিকার ভুয়া কৃষক সিন্ডিকেট ইউএনও-র  বিরুদ্ধে মিছিল করে, সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে।
 উপজেলা কৃষি কার্যালয়সূত্রে জানা যায় ,এবছর সরকারিভাবে উপজেলা থেকে ১৪শ ১৭ টন আমন ধান ক্রয়ের লক্ষে বিক্রেতা তালিকায় উপজেলার সাড়ে ৯ হাজার কৃষক তালিকাভূক্ত হন। ইউনিয়ন গুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপজেলা খাদ্য    কর্মকর্তার নির্দেশেই এই তালিকা প্রস্তুত করেন। সেই তালিকা থেকে লটারি করে ১হাজার ৪ শ ১৭জন কৃষক মনোনীত হন। প্রান্তিক কৃষকরা অভিযোগ করেন, মূল তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বরং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে গড়ে ওঠে একটি সিন্ডিকেট চক্র। এই চক্র আমন চাষীদের বাইরে বোরো চাষী, সবজি চাষীদের কৃষি কার্ড বিভিন্ন ভাবে কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে এদের তালিকাভুক্ত করেন। এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসিম কুমার সরকার তার  দেখনো পথে সব কিছু হয়েছে। তালিকা যাচাই করে দেখা যায়, একজন কৃষকের নাম একাধিকবার এসেছে। একই মোবাইল ফোন নাম্বার ব্যবহার করেছেন একাধিকজন।

এরমধ্যে ১টি ফোন নাম্বার ব্যবহার করেছেন ৫৭জন। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ একটি চক্র আমন চাষ করেনি এমন চাষীদের কার্ড অল্প টাকায় ক্রয় করে বিক্রেতা তালিকতায় নাম তুলেছে। উপজেলা কৃষিবিভাগ জানায়, শুধুমাত্র ফতেহপুর ইউনিয়নে লটারিতে অংশ নেয় ২২৫জন কৃষক। এরমধ্যে মনোনীত হন ৩৬জন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে যাচাই করে দেখা যায় এরমধ্যে ২০জনই ভূয়া। যাদের আমন চাষ নেই আবার কেউ কেউ বিদেশে থাকেন, এই চিত্র উপজেলার বাকি ৭ টি ইউনিয়নেও রয়েছে।

 

এমনও জানা যায় , যারা মনোনীত হয়েছে তাদের অধিকাংশের কৃষি কার্ড হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। কেনো কোনো কৃষককে ৪শ-৫শ টাকা দিয়েও কার্ড হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এসব কার্ড যখন লটারিতে মনোনীত হয়, তখন ঐ কৃষকদের কাছ থেকে অল্প    টাকায় ধান কিনে সিন্ডিকেট চক্র সরকারের কাছে বেশি দামে বিক্রি করে দিচ্ছে।

 

আরও জানা যায়   আমন চাষীদেও যে তালিকা হচ্ছে তা প্রকৃত চাষীদেরকে জানতেই দেয়া হয়নি। ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তারা সিন্ডিকেট চক্রকে নিয়ে গোপনে এই তালিকা করেছেন। ফলে ধান বিক্রয়ে সরকারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত কৃষকরা।

রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকতা মো.শাহাদুল ইসলাম কৃষক   তালিকায় অসংগতির অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, লটারীতে নির্বাচিত কৃষক তালিকা অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত আমন চাষী না হলে কার্ড জব্দ করা হচ্ছে। এরমধ্যে অনেক কার্ড জব্দ করা হয়েছে। তালিকা তৈরী করার কাজে অনিয়মে জড়িতদের  চিহ্নিত করতে তদন্ত  চলছে। উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার বলেন, বিষয়টি দু:খজনক। অনিয়মের অভিযোগ শুনার পর আমন ধান বিক্রয়ের আরেকটি কৃষক তালিকা তৈরীর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লটারিতে যারা মনোনীত হয়েছেন যাচাই বাচাই করে প্রকৃত চাষীদের ধান কেনা হচ্ছে। পরবর্তীতে সংশোধিত তালিকা থেকে আরেকটি লটারীর করা হবে। তখন প্রকৃত আমন চাষীরা বঞ্চিত হবেন না।