মৌলভীবাজার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্থান পরিদর্শনে আসেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান

Exif_JPEG_420
চিফ রিপোর্টারঃ  ২৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার মৌলভীবাজার শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্থান পরিদর্শনে আসেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান
বুধবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার
“পিংকি সু ষ্টোর”রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাচিিয়ে থাকা সদস্যদের দেখতে আসেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার জনাব মশিউর রহমান। অগ্নিকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বেচে থাকা সদস্যদের সাথে কথা বলেন, এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন  প্রশ্নের উত্তরে  বিভাগীয় কমিশনার জনাব মশিউর রহমান বলেন, সরকারের তরফ থেকে বিধি মোতাবেক যেটুকু সাহায্য করার প্রয়োজন তা সবই করা হবে। ঐ পরিবারে চাকরিযগ্য কেহ থাকলে তাঁকে সরকারি বা বেসরকারি চাকুরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতির ব্যপারে সরকারের সহযোগিতার বিষয় জানতে চাইলে, তিনি বলেন দোকানের ইন্সুইরেন্স করা থাকলে পুরাপুরি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে, অন্যতায় জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার ঘটিত ২টি তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  মুক্তিযুদ্ধের সময় এই পরিবারের ২ জন ব্যক্তি শহীদ হওয়া, বঙ্গবন্ধুর দেওয়া চিঠি ও টাকার কথা শুনে সিলেট  বিভাগীয় কমিশনার  বলেন,  যুদ্ধকালীন সময়ে এই পরিবারের অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া চিঠি বা অন্যান্য কাগজ পত্র থাকলে সেই কাগজ পত্র জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিলে শহীদ পরিবার বা মুক্তিযুদ্ধা হিসাবে সরকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সাথে ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মল্লিকা দে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক
(রাজস্ব) মামুনুর রশীদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্রিট তানিয়া আক্তার, পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, দৈনিক বাংলার দিন পত্রিকার সম্পাদক বকসি ইকবাল আহমদ,  প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ এলাহি কুঠি, প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ স্থানীয় ব্যবসাহী নেতৃবৃন্দ ও  এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গ।
যে ভাবে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে
মৌলভীবাজার শহরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ঘটনাস্থলেই ৫জন পুড়ে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২ জন। এই মনান্তিক ঘটনায় জেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনাটি ঘটেছে ২৯ জানুয়ারি  মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০ টার দিকে। মৌলভীবাজার শহরের ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এম সাইফুর রহমান রোডের “পিংকি সু স্টোরে”। ওই ঘটনার পর আশপাশের ব্যবসায়ীসহ পুরো শহরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসীন্ধারা দোকানপাট বন্ধ রেখে অগ্নি নিবাপন কাজে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন। দোকানের সাথে সংযুক্ত উপরে বাসার গ্যাস লাইনের গ্যাস লিংক অথবা বিদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারনা করছেন।
নিহতদের আত্মীয় স্বজনরা জানান, গেল বুধবার সুভাষ রায়ের বড় মেয়ে স্কুল শিক্ষক প্রিয়াংকা রায় পিংকির বিবাহ ছিল গেল বুধবার। আর তার বৌভাত ছিল সোমবার। বিবাহের ওই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে আতীয় স্বজন ও পরিবারের সকল সদস্যরা ওই বাসাতে জড়ো হয়েছিলেন। ওই অনুষ্ঠানের কারনে অনেকেই দেরী করে ঘুমাতে যান তাই দু একজন ছাড়া ওই অগ্নিকান্ডের সময় সবাই ঘুমন্ত ছিলেন।
Exif_JPEG_420

উদ্ধারকারীরা জানান, প্রথমে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পরে আগুনে পুড়ে তারা নিহত হন। আগুনে পুড়ার কারনে তাদেরকে সনাক্ত করা যাচ্ছিলনা। তারা জানান নীচ তলার দোকানের ভেতর দিয়ে উপর তলায় উঠানামার সিড়িঁ ছিল। ওই সিড়িঁ ও উপর তলার ছিল কাট ও টিনের তৈরী। তাছাড়া দোকানে জুতা, খেলনা ও প্লাষ্টিক সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যুতের সংযোগ দ্রুত বন্ধ করা হয়, গ্যাস লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও পাইপে জমাকৃত গ্যাসের কারনে তা বন্ধ হতে কিছুটা দেরী হয়। পানি ও বালু দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্ঠা করা হয়। ততক্ষনে পুড়ে ছাই হয় ওই পরিবারের ৫ জন।

Exif_JPEG_420
ঘটনার সময় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন মনা রায় (৫৬), সঞ্জয় রায় (২০), শুভ রায় (১৮), মনা রায়ের বড় ভাইয়ের বিধবা স্ত্রী। এছাড়া পরিবারে অন্যান্য সদস্যরা প্রিংকা পিংকির জামাইর বাড়িতে থাকায় তারা প্রাণে বেচেঁ যান। জেলা প্রশাসনের পক্ষে গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট তানিয়া সুলতানাকে এবং পৌরসভা কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে পৌর কাউন্সিলার জালাল আহমদকে। তদন্ত কমিটি দু’টি কাজ শুরু করেছে।
জেলা প্রশাসনের প্রেসব্রিফিং
মৌলভীবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে একই পরিবারে ৫ জন আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেসব্রিফিং দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিণ ওই মর্মান্তিক ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এধরনের দূর্ঘটনা রোধে করণীয় জানতে সকলের সহযোগিতা চান। ওই অগ্নি কান্ডের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট তানিয়া সুলতানাকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিবে। এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের সরকারের তরফে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
প্রেসব্রিফিংয়ের সময় জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজেষ্ট্রিট তানিয়া সুলতানা, পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, বিজনেস ফোরাম ও চেম্বার অব কর্মাসের নেতৃবৃন্দ, পৌর কাউন্সির ও গণমাধ্যম কর্মীসহ শহরের নানা শ্রেণী পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। মৌলভীবাজার পৌর শহরের সৈয়ারপুর মহা শশ্মান ঘাটে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিহতদের মরদেহ শবদাহ করা হয়।
মৌলভীবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মামলা নং ৪। এব্যাপারে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে, তদন্তে দূর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে