নাদিয়া আক্তার নিয়ারুন: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত ৭০ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুতায়িত করতে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় গ্রামীন শক্তি ও ব্র্যাক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ১৯৯৬ সালে এ উপ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীন মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে নবায়নযোগ্য সৌর-বিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্প গ্রহনের ৬ বছর পর ২০০২ সালে এনজিও গুলো শুরু করে প্রকল্পের কাজ।

প্রথম দিকে কমলগঞ্জে সৌর শক্তি প্রকল্পের প্রতি মানুষজনের তেমন আগ্রহ ছিল না। কিন্তুু এনজিওগুলোর উদ্যোগে আস্তে আস্তে মানুষজন এই সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে। বর্তমানে বিভিন্ন এনজিও সংস্থার পাশাপশি সরকারীভাবে বিতরণকৃত প্যানেলের মাধ্যমে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামের অনুন্য ৬ হাজার পরিবারক বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। এই সুবিধা পাওয়ার পর গ্রামগুলো সন্ধ্যার পর অন্ধকার থাকে না। দিনের আলো নিবে যাওয়ার পর সন্ধ্যা বাতির মতই আলোয় আলোকিত হয়ে উঠে। স্বাধীনতার পর থেকে এই সব গ্রামের মানুষের কাছে বিদ্যুতের আলো ছিল আকাশ কুসুম কল্পনা। কিন্তুু আজ প্রযুক্তির উৎকর্ষতার ফলে উপজেলার ঘণ অরণ্যে ঘেরা অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পাহাড়ি এলাকার গ্রামীন মানুষ গুলো সৌর বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করছে। সারাদেশে মানুষ যখন ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ তখনই এই এলাকার মানুষ নির্বিঘেœ জ্বালিয়ে যাচ্ছে সৌর বিদ্যুৎ। সৌর বিদ্যুতের সুবিধার ফলে সেখানকার লোকজন টেলিভিশন, সিডি, ফ্যান এমনকি কম্পিউটার পর্যন্ত চালাচ্ছে। সেই সাথে ঐ এলাকার স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যুতের আলোয় রাতের বেলায় লেখা-পড়া করতে পারছে।

যেসব গ্রামে যাতায়াতের পথ ছিল না সেখানে বিদ্যুৎ পাওয়া ছিল দুঃস্বপ্নের মত। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ পেয়েছে। গ্রামের সবাই সন্ধ্যা নামতেই খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘূমাতে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় ছিল না। কারণ কেরোসিন তেলের দাম বেশি হওয়াতে রাতে বেশিক্ষণ বাতি জ্বালানো বন্ধ করে দিত তারা। ফলে ঘরের ছেলে মেয়েরা রাতে তেমন একটা পড়া-শুনা করতে পারত না। যার ফলে পরীক্ষার ফলাফল হত খারাপ। এইচএসসি পরীক্ষার্থী সোহেল আহমদ জানান, সন্ধ্যায় পড়তো কেরোসিন তেলের কুপি জ্বালিয়ে। আজ কেরোসিন আছে, কুপি ও আছে কিন্তু তারা আর কুপি জ্বালিয়ে পড়ায় বসতে হয় না।

গ্রামের মানুষজনের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে অন্যতম সমস্যা ছিল বিদ্যুৎ। স্বাধীনতার পর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এসব গ্রামগুলোতে বিদ্যুতের আলো পৌছে দিতে পারে নি। যদিও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে এসব প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন টানার কাজ চলছে।

৫নং কমলগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্টানের পাশাপাশি সরকারীভাবেও বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিনামূল্যেসৌর বিদ্যুৎ প্যানেল বিতরন করা হয়েছে। সৌর বিদ্যুৎ এলাকায় পৌছার পর গ্রামগুলোর চিত্র পাল্টে গেছে। যদিও বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে বর্তমান সরকারের শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তন্মধ্যে দূর্গম যেসব এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ সুবিধা পৌছানো সম্ভব হয়নি সেসব এলাকা এখনসৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত। তাছাড়া বিদ্যুৎ বিহীন মুহুর্ত্তে এই সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে মানুষের ভরসার স্থল। এতে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে গ্রামীন মানুষের জীবন যাত্রার মান। বৃদ্ধি পেয়েছে কাজ কর্মের তাই আয়ও বাড়ছে। সন্ধ্যার পর ভুতুড়ে এলাকায় পরিণত হওয়া বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামগুলো এখন সৌর বিদ্যুতের বদৌলতে হয়ে উঠেছে কর্ম চঞ্চল। তিনি বলেন, এলাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সৌর বিদ্যুৎ। লোকজনের আগ্রহ বাড়ছে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রতি