মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ বন বিভাগের অনুমতি না নিয়ে গাছ কর্তন

0
28

হোসাইন আহমদ:  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বন বিভাগের কোনো প্রকার অনুমতি না নিয়ে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ্যের বিরুদ্ধে। রমজানের শেষের দিকে করোনা মহামারিতে অনেকটা গোপনে এ গাছগুলো কাটা হয়। বিষয়টি জানানো হয়নি কলেজ স্টাফের অন্যান্য শিক্ষকদেরও। তবে কয়েকদিন পর বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষকরা তা জানতে পারেন। শিক্ষকরা বলছেন অধ্যক্ষের একক সিদ্ধান্তে এ গাছগুলো কাটা হয়েছে।

কলেজের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রমজানের শেষের দিকে গাড়ির গ্যারেজের পশ্চিম পাশ থেকে ৩টি ও দক্ষিণ দিক থেকে ২টি বড় গাছ কাটা হয়েছে। এগুলো আকাশী ও মেহগনী ছিল। এ গুলো চেরানোর জন্য কর্মচারীদের দিয়ে পাঠানো হয় শহরের টিভি হাসপাতাল রোডস্থ আখলাই মিয়া’র স’মিলে। সূত্র বলছে সেখান থেকে কিছু কাঠ কলেজ অডিটোরিয়ামে আবার কিছু কাঠ দরজা জানালার সাইজে অধ্যক্ষ্যের বাস ভবনে রাখা হয়। মোট কত ফুট কাঠ হয়েছে। কলেজে কত ফুট আনা হয়েছে এবং কত ফুট গায়েব হয়েছে এ হিসাব কেউই বলতে পারছেন না। অধ্যক্ষের এমন কর্মকান্ডে স্টাফদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লকডাউনের আগে মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পৌর মেয়র ও শহরের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে কলেজের সামনের রাস্তার ফুটপাত বড় করতে পুরাতন বাউন্ডরি ভেঁঙ্গে কিছু জায়গা ছেড়ে দেয়া হয়। তখনও ৪০/৫০ বছরের পুরাতন একটি কাঁঠাল গাছ, করই গাছ ও গর্জন গাছ সহ বেশ কিছু গাছ কাটা হয়। এর আগে ছাত্রী হোস্টেলের উত্তর পাশ থেকেও একটি কাঁঠাল গাছ কাটা হয়েছে। গাছ গুলো বেরিরচরের একটি স’মিল থেকে চিরানো হয়। এগুলোতেও কতফুট কাঠ হয়েছে। কতফুট কলেজে আনা হয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

জানা যায়, কলেজ পরিচালনা নীতিমালার মধ্যে রয়েছে কলেজের প্রতিটি বিষয়ে আলাদা আলাদা কমিটি হবে। সেই কমিটিই নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করবে। প্রয়োজনে অধ্যক্ষ্যের সার্বিক সহযোগীতা ও পরামর্শ নিবে। কিন্তু গাছ কাটা সহ অনেক বিষয়ে অধ্যক্ষ এ নীতিমালা মানছেন না। অনেক কাজ উনার একক সিদ্ধান্তে হচ্ছে।

নাম গোপন রাখার শর্তে কলেজের একাধিক সিনিয়র শিক্ষক বলেন, গাছ কাটার সময় অধ্যক্ষ তাদের অবগত করেননি। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে গাছ কাটার বিষয়টি তারা জানতে পারেন।

জেলা সহকারী বন কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক  বলেন, কলেজের গাছ কাটার জন্য আমাদের অফিস থেকে কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। বিষয়টি আমার জানাও নেই। তবে বন বিভাগের অনুমতি না নিয়ে গাছ কাটা সম্পন্ন অন্যায়।

অধ্যক্ষ ড. ফজলুল আলী বলেন, “গাছগুলো পড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাটতে হয়েছে। তবে ওই জায়গায় সাথে সাথে ২টি গাছের চারা লাগিয়েছি। এর পাশাপাশি এবছর কলেজে বিভিন্ন প্রজাতির আরও ১৩০টি চারাগাছ লাগিয়েছি। কাটা গাছগুলো দিয়ে ব্যাঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। কাঠ গায়েবের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, সকল গাছের কাঠ দিয়েই ব্যাঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। তার সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য একটি মহল মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।