কামরানের জন্য কাঁদছে সিলেট

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুঠাম দেহ। গায়ে সাদা পাঞ্জাবি, ওপরে কালো মুজিব কোট। মাথায় সাদা টুপি। দূর থেকে দেখলেই চেনা যেত তাকে। ভোটের মাঠে হেরে নগরপিতার চেয়ার হারালেও তিনি ছিলেন সিলেটের মানুষের ‘মেয়র সাব’। ‘জনতার মেয়র’ হিসেবেই পরিচিতি ছিল তার। মরণঘাতী করোনাভাইরাসের কাছে হার মেনে সিলেটের সম্প্রীতির রাজনীতির অন্যতম পুরোধা এই রাজনীতিক চিরবিদায় নিয়েছেন। তিনি হলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

সোমবার ভোরে যখন ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তার মৃত্যু সংবাদ, তখন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না নগরবাসী। গুজব বলে অনেকেই উড়িয়ে দেন। কিন্তু ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সত্যিটা জেনে ভেঙে পড়েন সিলেটের সব শ্রেণী-পেশার মানুষ। তার মৃত্যু যেন একাকার করে দিয়েছে সব দল ও মতকে। সবার মুখে কামরানের জন্য আর্তনাদ।

ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান সিটি মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক চৌধুরীরও চোখ বেয়ে নেমে আসে কামরানের জন্য কান্না। কামরানকে জনসেবক হিসেবেই আখ্যায়িত করে আরিফ বলেন, ‘কামরান ভাই একজনই ছিলেন, তার মতো মানুষ আর আমরা পাব না। তিনি সারা জীবন সিলেটের মানুষের সেবাই করে গেছেন।’

কামরানের প্রস্থানে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় শূন্যতা হিসেবেই দেখছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার ২১ বছরের সেবা মানুষের মাঝে তাকে বাঁচিয়ে রাখবে বলে মন্তব্য করেন বর্ষীয়ান এই অর্থনীতিবীদ। আর কামরানকে সিলেটের মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, সিলেটের সব আন্দোলন-সংগ্রামে কামরান ছিলেন সম্মুখযোদ্ধা। মানুষের সুখ-দুঃখের সহযাত্রী ছিলেন কামরান।
কামরানের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘তিনি ছিলেন তৃণমূলের নেতা। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের নিয়েই ছিল তার রাজনীতি। জনপ্রতিনিধি হয়েও তিনি সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে মিশতেন, সেভাবেই তিনি ধীরে ধীরে গণমানুষের নেতা হয়ে উঠেছিলেন।’
শুধু কি নিজ দলের নেতাদের মুখে ছিল কামরান বন্দনা? না, তার মৃত্যু বিরোধী মতাদর্শের রাজনীতিকদেরও করেছে শোকাহত। তাদের মুখেও উচ্চারিত হচ্ছে কামরানের জন্য আফসোস। সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার, সাবেক সভাপতি আবুল কাহের ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এম এ হক তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে কামরানকে সিলেটের সম্প্রীতির রাজনীতির একটি শক্ত পিলার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তাকে সিলেটবান্ধব জনপ্রিয় নেতা উল্লেখ করে বিএনপি নেতারা বলেন, ‘আদর্শিক রাজনীতির বাইরে গিয়েও কামরান ছিলেন সজ্জন রাজনীতিবিদ। সিলেটে রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তার অবদান ছিল অপরিসীম। তার মৃত্যুতে সিলেটবাসী একজন গুণী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল। যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’