কুলাউড়ায় খরিদা ভূমি দখল করে কলাগাছ রোপনের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুরে রাতের অন্ধকারে খরিদা ভূমি দখল করে বেড়া দিয়ে কলাগাছ লাগানোর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভূমি মালিক কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কঠারকোনা গ্রামে মনুনদী সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগপত্রে দেখা যায়, কঠারকোন এলাকার মনু নদীর তীরঘেষা ছমর উদ্দীনের খরিদকৃত ৬০ শতক ভূমি দখল করে বাঁশের বেড়া দিয়ে কলাগাছ রোপন করেছেন একই এলাকার আবু মিয়া, চান্দ আলীগংরা। রাতের আঁধারে প্রতিপক্ষের ওই ভূমি দখলে নিয়েছে। তবে ছমর উদ্দীন নিজের ক্রয়কৃত ভূমি রক্ষায় তাদের আপত্তি জানিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দীন বিষয়টি নিয়ে দখলকার ব্যক্তিদের কাগজপত্র নিয়ে আসার কথা জানালেও দখলদার আসেনি। পরে ভূমি দখলের ঘটনায় ছমর উদ্দীন বাদি হয়ে পরদিন কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ করে ছমর উদ্দীন বলেন, দীর্ঘসময়কাল ধরে খরিদকৃত ভূমিতে ভোগ দখলকার হিসাবে আছি। এলাকার প্রভাবশালী সমুজ মিয়ার হুকুমে আবু মিয়া, চান্দ আলী, ময়না মিয়া, কুটু মিয়া, সিদ্দেক আলী, সুরফান মিয়া ও গনি মিয়া আকস্মিকভাবে রাতের আঁধারে আমার ভূমি জোরপূর্বক দখল করে কলাগাছ রোপন করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়ভাবে বিচার প্রার্থী হই। পরে থানায়ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

এব্যাপারে হাজীপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দীন বলেন, অভিযোগ পেয়ে দখলকারীদের আপত্তি জানাই এবং কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করি। তারা প্রথমে কাজ বন্ধ করলেও পরে ভূমি দখল করে নেয়। আমার কাছে আর আসেনি। ছোট বেলা থেকেই এই ভূমি ছমরউদ্দীনের ভোগদখল ছিল বলে তিনি জানান।

অভিযোগ বিষয়ে সমুজ আলী বলেন, এ ঘটনার সাথে মোটেও সম্পৃক্ত নয়। ভূমি দখলের বিষয়েও কিছু জানিনা। ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মামলার আসামী করা হয়েছে।

হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বলেন, দখলের অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে সরেজমিনে পাঠিয়েছি।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার এসআই কানাই লাল চক্রবর্তী অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি সরকারী জমি এবং বালু মহাল। তবে দখল বিষয়ে সামাজিকভাবে সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে।