কোরবানীর প্রাণীর চামড়া তদারকিতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর

জাতীয় সম্পদ চামড়া, রক্ষা করবো আমরা” এই স্লোগান সামনে রেখে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সার্বিক নির্দেশনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয় কর্তৃক কোরবানীর প্রাণীর চামড়া তদারকি করা হয়।        ০৪ আগস্ট ২০২০ খ্রি: তারিখে অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় কর্তৃক শ্রীমঙ্গল উপজেলার উত্তরভাড়াউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় ব্যবসায়ীদের দ্বারা সংগৃহীত কোরবানীর প্রাণীর চামড়া সরেজমিনে তদারকি করা হয়। শ্রীমঙ্গল উপজেলার চামড়া ব্যবসায়ী মো: লায়েক মিয়া, সোহেল মিয়া, হোসেন মিয়াসহ বেশ কিছু ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে তারা এই বার বেশ কিছু চামড়া সংগ্রহ করেছে এবং সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করছে। এই ব্যবসাটি তাদের বাপ দাদার আমল থেকেই করে আসছে উল্লেখ করে তারা জানান যে ঢাকার আড়তের মালিকগণ সঠিক সময় তাদের টাকা পরিশোধ করেন না তাই তারা চামড়া ব্যবসার প্রতি আগ্রহ দিন দিন হারিয়ে ফেলছেন। ঢাকার লালবাগ এলাকার পোস্তার চামড়া আড়তদারের কাছে মো: লায়েক মিয়া প্রায় ৩ লক্ষ টাকা পাওনা থাকলেও ঝুঁকি নিয়ে এবারও তিনি চামড়া সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজারের চামড়া ব্যবসায়ী ফজুল মিয়া ও  হোসেন মিয়া জানান যে তারা সঠিক দামে চামড়া বিক্রয় করতে পারছেন না। যার কারণে এই ব্যবসায়ে অনেক ক্ষতি হচ্ছে। শ্রীমঙ্গলের মো: লায়ের মিয়ার মত তারাও ঢাকার পাইকারি চামড়া আড়তদারের কাছে অনেক বকেয়া টাকা পান। উক্ত ব্যবসায়ীদের প্রাণীর চামড়াগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার কথা উল্লেখ করে অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: আল-আমিন তাদেরকে চামড়া ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেন।            গত কাল ০৩ আগস্ট ২০২০ খ্রি: তারিখে অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় কর্তৃক রাজনগর উপজেলার চৌধুরী বাজার এলাকা ও কুলাউড়া উপজেলার উছলাপাড়ার চামড়া ব্যবসায়ীদের কাযক্রম তদারকি করা হয়। তাদেরকে অনুরোধ করা হয় চামড়াগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার জন্য। রাজনগরের রাসেল লেদার হাউজের প্রোপাইটার রাজা মিয়া, চামড়া ব্যবসায়ী সালাম মিয়া, কুলাউড়ার চামড়া ব্যবসায়ী মতিন মিয়াসহ অনেকের কাছেই ঢাকার চামড়া আড়তের ব্যবসায়ীরা তাদেরকে সঠিকভাবে পাওনা টাকা পরিশোধ করেন না এই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। মৌলভীবাজারের এই সকল ব্যবসায়ীদের উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসনসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য বলা হয়। এইসকল চামড়া ব্যবসায়ীদের অনেকেই মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে চামড়া সংগ্রহ করলেও তাদের টাকা পরিশোধ করেননি। কোরবানীর প্রাণীর চামড়ার মূল্য গরিব ও এতিমরা পেয়ে থাকে উল্লেখ করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এই সকল চামড়া ব্যবসায়ীদের মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সঠিক  দাম পরিশোধ করার জন্য অনুরোধ জানান।প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ