কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন : তৎপর আ.লীগ ও কৌশলী বিএনপি

চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে পৌরসভার নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এ খবর জানার পর থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র, কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে তৎপরতা শুরু করে দিয়েছেন। করোনার সময়ে প্রার্থীরা লোকজনের পাশে গিয়ে সাহায্য-সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে ভোটারদের মন জয় করতে চাইছেন।

তবে এখন নির্বাচনী মাঠে অনেক প্রার্থীই তৎপর থাকলেও মূল লড়াই এর এক তৃতীয়াংশই প্রার্থীই না থাকার সম্ভাবনা। কারণ ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে দেশে প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাই মূল নির্বাচনের পূর্বেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের দলের মধ্যে লড়াই করে প্রার্থী হতে হবে।

তফসিল ঘোষণার আগেই পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ইতিমধ্যে পৌর এলাকার প্রত্যন্তঞ্চলে পোষ্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

শুধু তাই নয় হাট-বাজারে বিভিন্ন দোকানে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা একদিকে যেমন এখন থেকেই গ্রামে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, মসজিদে ও বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। অন্যদিকে তেমনি দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে ঘোরাঘুরি ও দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা ভোটের আগেই দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকেই বেশী প্রধান্য দিচ্ছেন।

আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের মত বিএনপির প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ অনেক কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মামলা-হামলার ভয়ে অনেকেই আত্মগোপনে আছেন। আবার কেউবা বলছেন কৌশলগত কারণে এত আগে তারা প্রচারণায় নামছে না।

২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ নির্বাচনে পৌর মেয়র পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছিলেন ৭ জন। প্রথমবারের মতো আওয়ামীলীগ মনোনীত তরুণ প্রার্থী মো. জুয়েল আহমেদ নৌকা প্রতীক নিয়ে ৩৯৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব তালগাছ প্রতিকে ভোট পেয়েছিলেন ২৮০৪ ও বিএনপি’র প্রার্থী আবু ইব্রাহিম জমসেদ ধানের শীষ প্রতিকে ২১৩৩ ভোট, বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী হাছিন আফরোজ চৌধুরী জগ প্রতিকে ৪২৬ ভোট, রফিকুল আলম ভোট পেয়েছিলেন ৮০, নজরুল ইসলাম ভোট পেয়েছিলেন ৮০ এবং মাসুক আহমদ ভোট পেয়েছিলেন ২৩টি।

এবার ২০২০ সালের নির্বাচনে কমলগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার হচ্ছেন ১৫২০৩ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ৭৬০০ এবং মহিলা ৭৬০৩ জন। কয়েকজন ভোটারের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এবারও কমলগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমলগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে এক প্রকার প্রকাশ্যই বিভেদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই নির্বাচনে যদি এককভাবে প্রার্থীতা মনোনয়ন দেয়া না যায় তাহলে যে কেউ ভোটে বিজয়ের মালা পড়তে পারে।

এবারের কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেন। পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে ৪ জন ও বিএনপির ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির তৎপরতা এখনও চোখে পড়েনি।

ইতিমধ্যে প্রার্থীতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং নির্বাচনী মাঠে যারা কাজ করছেন তারা হলেন- বর্তমান পৌর মেয়র, কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. জুয়েল আহমদ, কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পৌর কাউন্সিলর মো. আনোয়ার হোসেন, কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও বর্তমান পৌর কাউন্সিলর রাসেল মতলিব তরফদার ফখরু, কমলগঞ্জ উপজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিকলীগের আহবায়ক ও ঠিকাদার মো. হেলাল মিয়া ও সাবেক সাবেক যুবলীগ নেতা নাট্যকার জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব।

অপরদিকে বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে মাঠে কাজ করছেন কমলগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র আবু ইব্রাহিম জমসেদ, মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী তৈমুর প্রমুখ। তারা ইতিমধ্যেই নানান প্রতিশ্রুতি নিয়ে আগে ভাগেই ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের কার্যক্রমে লেগে পড়েছেন।

বর্তমান পৌর মেয়র মো. জুয়েল আহমদ বলেন, বিগত নির্বাচনের সময় আমি ভোটারদের কাছে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার সিংহভাগই পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। আবারো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। আশা করি ভোটাররা অবশ্যই বিগত দিনের আমার কাজের মূল্যায়ন করে পুনরায় নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ করে দিবে

আরেক প্রার্থী কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি, জেলা যুবলীগের সহসভাপতি, বর্তমান পৌর কাউন্সিলর মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে মানুষের কাছে আছি। তাই মানুষের সেবা করার জন্য প্রার্থী হতে যাচ্ছি।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও বর্তমান পৌর কাউন্সিলর রাসেল মতলিব তরফদার ফখরু বলেন, জনসেবাকে ইবাদত মনে করি। জনসেবায় নিয়োজিত আছি এবং সেবায় নিয়োজিত থাকতে প্রার্থী হচ্ছি।

ঠিকাদার হেলাল মিয়া বলেন, আমি অনেক দিন ধরেই মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছি। আরও ব্যাপকভাবে মানুষের সেবা করার জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হতে যাচ্ছি। আশাকরি ভোটাররা আমাকে বিজয়ী করবেন।

অপর প্রার্থী বিএনপি নেতা আবু ইব্রাহিম জমসেদ বলেন, আমি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের সেবায় নিজেকে সব সময় নিয়োজিত রেখেছিলাম। তাই এই কাজে নিজেকে আরও নিবিড়ভাবে জড়ানো ইচ্ছায় প্রার্থী হচ্ছি।

নাট্যকার জাকারিয়া হাবিব বিপ্লব বলেন, আমার পরিবার সব সময়ই জনগণের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তাদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসাবে আমি মানুষের সেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাই।

তরুণ প্রার্থী মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী তৈমুর বলেন, শহরবাসী পরিবর্তন চায়। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্তি পেতে চায়। তাই উন্নত নাগরিক সেবা ও আধুনিক পৌরসভা গঠনে কাজ করার ইচ্ছা থেকে প্রার্থী হচ্ছি। আশাকরি জনগণ তাদের সেবা করার সুযোগ তৈরি করে দিবেন।

 

 

source: moulvibazar24