একজন মহসীন আলী হয়ে উঠা সহজ ছিলো না

সৈয়দা সানজিদা শারমিন : কিছু কিছু ছবি শুধু ইতিহাস হয়ে রয় আর অনেক কিছু বলে।একজন মহসীন আলী এক সময় সাংবাদিকতাও করেছিলেন। সব বড় বড় সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানেও যেতেন। সংগীত, কবিতা আব্বার অবসর সময়ের বিনোদন ছিলো। নানান অনুষ্ঠানে গান গাইতেন।দেশাত্মবোধক গান গেয়ে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতেন।এমনকি সংসদেও সর্বশেষ বক্তব্যে প্রাসঙ্গিক একটি গান গেয়েছিলেন,,,

একজন মহসীন আলী হয়ে উঠা সহজ ছিলো না।ধাপে ধাপে তিনি মৌলভীবাজারের মানুষের মনের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন।কতো সংঘাত- সংগ্রাম করেছিলেন, মৌলভীবাজারে আওয়ামীলীগের অবস্থান শক্ত করার জন্য তা আজ আরেক ইতিহাস,,,,

৩৬,শ্রীমংগল রোড,মৌলভীবাজার। মহসীন আলীর বাড়ি থেকেই মৌলভীবাজার আওয়ামীলীগ পরিচালনা হতো।দলের মানুষের আশ্রয়স্থল ছিলো আমাদের বাসা।ঝড়,বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে তড়িৎ ছুটে যাওয়া নেতা ছিলেন আব্বা।একসময় মানুষ মনে করত মহসীন আলীর কাছে যাওয়া মানেই সব সমস্যার সমাধান।এইভাবেই মহসীন আলীর অনেক কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে সাধারণ মানুষের অসাধারণ নেতা হয়ে উঠা,,,

একজন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযুদ্ধা।যিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধাদের অতি আপনজন।একজন সৎ নেতা-যিনি জীবনের সব সম্পদ দিয়ে দল আর মানুষের কাজ করে গেছেন।
আজ আমাদের দেশে সৎ,সাহসী নেতার বড়ই অভাব!!এই সময় কিভাবে একজন ঘড়ি মার্কার সাহসী বীর জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মহসীন আলী থেকে নৌকা মার্কার সাংসদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী হলেন- তা আজ দেশের সবার জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক এক ইতিহাস,,,

মহসীন আলীর মতো বহুমুখী প্রতিভাধর নেতার মেয়ে হিসেবে আমি গর্বিত।তোমার সততা আমাদের বীরদর্পে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেয়,,,

১৪ই সেপ্টেম্বর ২০১৫,,আব্বা আমাদেরকে ছেড়ে পরপারে চলে গিয়েছিলেন।৫ বছর হয়ে গেলো।আব্বা তোমার কাজই তোমাকে আমাদের মাঝে সবসময় বিরাজমান রাখে,,সবাই আল্লাহ্‌র কাছে আমার আব্বার জন্য দুয়া করবেন।

সুত্রঃ mkagoj protidin